Author(s): Sulekha Ghosh
Abstract:
অনুকরণ করিবার সহজাত প্রবৃত্তি হইতে নাটকের উৎপত্তি। ভারতীয় নাটকের উৎপত্তি নৃত্য হইতে হইয়াছে অনুমান করা অসঙ্গত নহে। ঊনবিংশ শতাব্দীতে নাট্যমঞ্চের যবনিকা উত্তোলিত হবার পর নাটকের মধ্যে যে চেতনা মূর্ত হইতে লাগিল। তাহার স্বরূপ জানিতে গেলে তৎকালীন বাংলার সামাজিক দিকে দৃষ্টিপাত করিতে হইবে। জমীদার বংশের সন্তান মীর মশাররফ হোসেন উদ্দেশ্যমূলক ভাবে ১৮৭২ সালে নাটকটি রচনা করে জমীদারের দ্বারা অত্যাচারিত মানুষের সকরুণ আর্তিকে নাটকের মাধ্যমে তুলে ধরতে চেয়েছেন। সিরাজগঞ্জে কৃষক বিদ্রোহের পটভূমিতে রচিত এই নাটকে নাট্যকার অত্যাচারী, স্বেচ্ছাচারী, দুশ্চরিত্র জমীদারদের অপকর্মের স্বরূপ উন্মোচন করেছেন। হায়ওয়ান আলী কোশলপুর গ্রামের লম্পট জমিদার। আবুমোল্লার সুন্দরী পত্নী নুরন্নেহারের প্রতি আকৃষ্ট হয়। কিন্তু নুরন্নেহার জমীদারের কুপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। যার ফলে জমীদার তার স্বামীকে জোর জবরদস্তি করে ধরে আনে। এতেও কাজ না হওয়ায় পরবর্তিতে দেখা যায় জমীদারের লোকজন অন্তঃসত্বা নুরন্নেহারকে ধরে নিয়ে যায় এবং তার ওপর পাশবিক অত্যাচার চালায়। মৃত্যু হয় নুরন্নেহার। প্রজাদের ওপর অত্যাচার, ধর্মের আন্তরালে অপকর্ম ইত্যাদির মাধ্যমে তৎকালীন সমাজের চিত্র ফুটে উঠেছে আলোচ্য নাটকে। অথচ তাদের কোনো সঠিক বিচারও হত না। শুধু তাই নয় ঊনবিংশ-শতাব্দীতে জমীদারের অধিনস্থ চাকর, সর্দার, মোসাহেবগন জমীদারকে তোষামোদ করত এবং তাদেরকে পদলেহণের মাধ্যমে জীবন অতিবাহিত করত। এমনকি সেসময়ে অনেক মানুষ ধর্মব্যবসায়ী হিসাবেও সমাজের ক্ষতিসাধন করেছে। ১৮৭২-৭৩ খ্রিস্টাব্দের ‘সিরাজগঞ্জ-বিদ্রোহ’ এর পটভূমিতেই রচিত হয়েছিল আলোচ্য 'জমীদার দর্পণ' নাটকটি। যেখানে শ্রী মীর মশাররফ হোসেন জমীদারদের সকল অপকর্ম স্পষ্টভাবে চিত্রিত করেছেন। যা ঊনবিংশ শতাব্দীর সমাজের কুফলগুলির চিএ হিসাবে দর্পণের প্রতিবিম্ব স্বরূপ ফুটে উঠেছে।
PDF URL: View Article in PDF
