Author(s): Malobika Dolui
Abstract:
সংস্কৃত কাব্য প্রধানত দুইভাগে বিভক্ত। দৃশ্যকাব্য ও শ্রব্যকাব্য। দৃশ্যকাব্য হল দৃষ্টিগ্রাহ্য। কাব্যের রস আস্বাদিত হয় মঞ্চে অভিনয়ের মাধ্যমে। আর এই অভিনয়ের মাধ্যমে মঞ্চে অভিনীত বিষয়বস্তুকেই নাটক বা দৃশ্যকাব্য বলে। সংস্কৃত দৃশ্যকাব্য বা নাটক দশপ্রকার রূপক ও আঠারোপ্রকার উপরূপক নিয়ে বিভক্ত। দেবতাগণ ও মহিষীগণদের অনুরোধে প্রজাপতি ব্রহ্মা ‘পঞ্চমবেদ’ স্বরূপ নাট্যবেদ রচনা করেন। আমরা জানি বাংলা ভাষার উদ্ভবের আগে সংস্কৃত ভাষার উদ্ভব হয়। অতএব‚ বাংলা নাটকের চর্চা শুরু হয় সংস্কৃত নাটক থেকে। সুতরাং এই কথাই বলতে পারি যে বাংলা নাটকের উপর সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাব পড়েছিল। বিশেষত ঊনিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলা নাটকের কাঠামো, বিষয়বস্তু এবং নাট্যরীতির ওপর কিভাবে সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাব পড়েছিল তা নিয়ে আলোচনা করলাম এই বিষয়বস্তুর মধ্য দিয়ে। বাংলা নাটকে সংস্কৃতসাহিত্যে কাব্যিক‚ চরিত্রায়ণ, বিষয়বস্তু, ভাষারীতিতে প্রভাব ফেলেছিল। সংস্কৃতসাহিত্যের প্রভাব বাংলা নাটকে একটি সর্বজনস্বীকৃত সত্য়। মাইকেল মধুসূদনের লেখা নাটকে গ্রীক এবং সংস্কৃত নাটকের প্রভাব লক্ষ্য করা যায় যা পরবর্তী বাংলা নাটকে রচনার মূল ধারা তৈরী করতে সহায়তা করে। সংস্কৃত সাহিত্যের প্রভাব বিশেষত রামায়ণ তর্করত্নের লেখা নাটকে প্রমাণ মেলে। যেমন তাঁর লেখা নাটকটি হল অতিবিখ্যাত সমাজচিত্র হিসাবে “কুলীনকুলসর্বস্ব”(১৮৫৪)। এই নাটকে পৌরাণিক নাটক হিসাবে ‘ধর্মবিজয়’ নাটকটি উল্লেখ করা যায়। আবার এই নাটক থেকেই ‘মুদ্রারাক্ষস’ নাটকের আরম্ভ বলা যায়।
PDF URL: View Article in PDF
