Author(s): Sunanda Dey
Abstract:
ভারতবর্ষে নাট্যকলার উদ্ভব ও বিকাশে আচার্য ভরত মুনি রচিত নাট্যশাস্ত্রের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ৩৬ টি অধ্যায়ে রচিত ৬০০০ শ্লোক সমন্বিত ’নাট্যশাস্ত্র’ গ্রন্থটির রচনাকাল বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। আনুমানিক খ্রিস্টপূর্ব প্রথম শতাব্দীকে এই গ্রন্থের রচনা কাল রূপে মনে করা হয়। নাট্যতত্ত্ব সমৃদ্ধ এই গ্রন্থের উপর অসংখ্য টিকা বর্তমান থাকলেও আচার্য অভিনব গুপ্ত বিরচিত 'অভিনবভারতী' টিকা নাট্যশাস্ত্রের সর্বাপেক্ষা প্রসিদ্ধ ও সর্বজন গ্রাহ্য টীকা রূপে পরিচিত। এই গ্রন্থে নাটকের উৎপত্তি, প্রয়োজন, নাট্যশালা নির্মাণ, রঙ্গ পূজা, তাণ্ডব নৃত্য, করণ, অঙ্গহার, রস নিরূপণ, ভাব নিরূপণ, আঙ্গিক অভিনয়, উপাঙ্গের অভিনয়, চারী বিধান, মন্ডলভেদ, গতি প্রচার, স্থান বিভাগ, বাচিক অভিনয়, ছন্দ প্রয়োগ, বৃত্ত ভেদ, ৩৬প্রকার লক্ষণের নাম ও বর্ণনা, দশ প্রকার রূপকের লক্ষণ, ইতিবৃত্ত-অবস্থা-সন্ধি-অর্থোপক্ষেপক, আহার্য অভিনয়ের নির্দেশ, সামান্য অভিনয়ের নিরূপণ, চিত্রাভিনয় ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা রয়েছে। নাট্যশাস্ত্রের ‘তাণ্ডববিধান’ নামক চতুর্থ অধ্যায়ে তান্ডব নৃত্যের বিস্তৃত বর্ণনার পর করণ ও অঙ্গহারের বর্ণনা উপলব্ধ হয়। নাট্যশাস্ত্রের চতুর্থ অধ্যায়ের প্রারম্ভে দেখা যায় যে পূর্বরঙ্গের বর্ণনার পর গতি এবং স্থিতি এই দুইভেদে 108 প্রকার করণের উল্লেখ করে ৩২ প্রকার অঙ্গহারের উল্লেখ করেছেন আচার্য ভরত মুনি। এই ৩২ প্রকার অঙ্গহারের নাম হলো - ১.স্থিরহস্ত, ২.পর্যস্তক,৩.সূচিবিদ্ধ, ৪.অপবিদ্ধ, ৫.আক্ষিপ্তক ৬.উদ্ধট্টিত, ৭.বিষ্কম্ভক, ৮.অপরাজিত, ৯.বিষ্কম্ভাপসৃত ১০.মত্তাক্রীড়, ১১.স্বস্তিকরেচিত, ১২.পার্শ্ব-স্বস্তিক, ১৩.বৃশ্চিকাপসৃত, ১৪.ভ্রমর, ১৫.মতস্খলিত, ১৬.মদবিলসিত, ১৭.গতিমণ্ডলক, ১৮. পরিচ্ছিন্ন, ১৯.পরিবৃত্তচিত, ২০.বৈশাখরেচিত ২১.পরাবৃত্ত ২২.অলাতক, ২৩.পার্শ্বচ্ছেদক, ২৪.বিদ্যুদ্ভ্রান্ত, ২৫.উরুদ্বৃত্ত, ২৬.অলীঢ়, ২৭.রেচিত, ২৮.আচ্ছুরিত, ২৯.আক্ষিপ্তরেচিত ৩০.সম্ভ্রান্ত, ৩১.অপসর্প, ৩২.অর্ধনিকুট্টক । এই শোধপত্রে ৩২প্রকার অঙ্গহারের মধ্যে কতিপয়ের সংক্ষিপ্ত আলোচনা করা হল।
PDF URL: View Article in PDF
