Author(s): Nandalal Hembram
Abstract:
“সংস্কারের যূপকাষ্ঠে বাধা সমাজের তরী জীবন পারাবার কী করে ? তরিবে এ নারী।” আজ আমরা একবিংশ শতকে দাঁড়িয়েও পিতৃতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থায় আবদ্ধ; এই আগল বা বন্ধন ছিন্ন করতে পারিনি বা ছিন্ন করতে চাইনি; আমাদের স্বার্থ চরিতার্থ করার তাগিদে। পুরুষ তান্ত্রিক সমাজ চিরকাল নারীকে অবহেলিত করে রেখেছে, তাদের সামাজিক মান মর্যাদা থেকে বঞ্চিত করে রেখেছে। আর যদি সেই নারী বৈধব্য হয় তাহলে তার পরিনতি আমরা সহজে কল্পনা করতে পারি। সমাজে যেখানে সধবা নারীদের এই করুণ অবস্থা, সেখানে বৈধব্য নারীদের সামাজিক মান-মর্যাদা কল্পনা করা দূরহ। তাদের সমাজের সংস্কারের যাতাকলে নিষ্পেষিত হতে হতে নিঃশেষ হতে হয়। জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে হতে হয় অবহেলিত লাঞ্ছিত ও অপমানিত। সমাজ সংস্কারের গন্ডীতে বাধা পড়ে তাদের জীবন। পৃথিবীর রূপ রস গন্ধ সৌন্দর্য কোনো কিছুই উপভোগ করতে পারে না। তারা হয়ে পড়ে পুরুষের দৈহিক চাহিদা চরিতার্থ করার আধার মাত্র। অনেক সময় এই নারী যৌবন জ্বালা নির্বাপণ করার জন্য তাদের চারিত্রিক স্খলন লক্ষ্য করা যায় আর পুরুষেরা তাদের এই দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাদের জীবন যৌবন কেড়ে নেয়, পক্ষান্তরে এই নারীরা পুরুষের এই ভালোবাসায় ভর করে নতুনত্বের স্বাদ আস্বাদন করতে চায়। হয়তো অনেক সময় এই নারীরা আংশিক ভাবে সফলতা পেলেও জীবনের পূর্ণতা পায় না। পুরুষ তান্ত্রিক এই সমাজ এই নারীদের সর্বস্ব লুটে নিয়ে অকূল সাগরে ভাসিয়ে দেয়। তাদেরই জীবনের প্রতিচ্ছবি ধ্বনিত হয়েছে পল্লী কবি জসীমউদ্দিন-এর জনপ্রিয় ঐতিহ্যবাহী বাংলার ভাটিয়ালি গানে-
PDF URL: View Article in PDF
